কালোজিরার উপকারিতা ও কালিজিরা খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম: কালোজিরা পৃথিবী জুড়ে ভেষজ হিসাবে পরিচিত, বিশেষত ডায়রিয়া, বদহজম, ক্ষত এবং শ্বাসকষ্টের সংক্রমণের মতো অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য এটি বিশ্বের অনেক স্থানে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কালোজিরা খাবারের উদ্দেশ্যে খুব অল্প ব্যবহারযোগ্য। মধু ও কালিজিরা – তারুণ্য ধরে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে কালিজিরা খাওয়াটা দীর্ঘদিনের রীতি।

কালোজিরার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

স্মরণ শক্তি বৃদ্ধিঃ এক চা চামচ পুদিনা পাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চা চামচ কালোজিরা তেল মিশিয়ে দিনে ৩ বার করে খাবেন। যার ফলে আপনার দুশ্চিন্তা দূর করবে। এছাড়া এটি মেধার বিকাশের জন্য কাজ করে দ্বিগুণ হারে। মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

মাথা ব্যাথা নিরাময়েঃ১/২ চা চামচ কালোজিরা তেল মাথায় ভালোভাবে লাগাতে হবে এবং ১ চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিনে ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ খেলে মাথা ব্যথায় উপকার পাবেন।

সর্দি সারাতেঃ ১ চা চামচ কালোজিরা তেল সমপরিমাণ মধু বা ১ কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার খেতে হবে এবং মাথায় ও ঘাড়ে রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মালিশ করতে হবে। এছাড়া ১ চা-চামচ কালোজিরার তেলের সাথে ২ চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশিয়ে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হবে।

বাতের ব্যাথা দূরীকরণেঃ আক্রান্ত স্থানে ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন উপকার পাবেন। ১ চা চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরা সমপরিমান মধু মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রেঃ ১ চা চামচ কালোজিরার গুড়া ১ কাপ দুধের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার করে ৪/৫ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

ব্লাডপ্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতেঃ প্রত্যেক দিন সকালে রসুনের দুটি কোষ চিবিয়ে খেয়ে এবং সমস্ত শরীরে কালোজিরার তেল মালিশ করে সূর্যের তাপে কমপক্ষে আধা ঘন্টা থাকতে হবে এবং ১ চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন খেলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ ১ চিমটি পরিমাণ কালোজিরা ১ গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২ বার করে খেলে উপকার পাবেন।

পাইলস সমস্যা নিরাময়েঃ ১ চা-চামচ মাখন ও সমপরিমাণ তিলের তেল, ১ চা চামচ কালোজিরার তেল সহ প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

আমাশয় নিরাময়েঃ আমাশয় রোগের চিকিৎসা করতে কালোজিরার ব্যবহার অনেক পুরোনো। এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু সহ দিনে ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ খাবেন।

শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে: যারা হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক বেশি উপকারী। প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন খাদ্য তালিকায়।

অনিয়মিত মাসিক সমস্যায়ঃ ১ কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক কাপ চা চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার করে খেলে কার্যকারীতা বুঝতে পারবেন।

বুকের দুধ বৃদ্ধি করতেঃ যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালিজিরা। মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে খেতে থাকুন। মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে।

যৌন সমস্যা সমাধান করেঃ কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং যৌন সমস্যা প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে। ১ চা চামচ মাখন, ১ চা চামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরা ও মধুসহ দৈনিক ৩ বার ৪/৫ সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

শিশুর দৈহিক মানসিক বৃদ্ধি করতেঃ দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে দ্রুত শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক কাজ করে এটি। তবে দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা উচিত নয়।

কালোজিরার উপকারিতা বলতে গেলে শেষ হবে না কারণ কালোজিরা বহুগুণে গুণান্বিত।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button