ইউটিউবে আপলোড করা প্রথম ভিডিও এবং প্রথম ব্যক্তি!

First Youtube Video Uploader – ইউটিউবে আপলোড করা প্রথম ভিডিও: সাধারণত আমরা সকলেই ৬-৭ বছর আগে আপলোড করা ভিডিওগুলো দেখেছি, কিন্তু ১৫ বছর আগে আপলোড করা কোনো ভিডিও এর আগে চোখে পড়েনি হয়তো। তাই ভাবলাম এই ভিডিও সম্পর্কে কিছু লেখা যাক- দেখে নেয়া যাক ভিডিওটা আসলে কী নিয়ে৷

ভিডিওটার টাইটেল ছিল- ‘Me at the zoo’. ভিডিওটি ওপেন করার পর তেমন আকর্ষণীয় কিছু পাওয়া না গেলেও ১৯ সেকেন্ডের এই ভিডিও, সেখানে একজন চিড়িয়াখানায় যেয়ে হাতির খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলছেন বলে মনে হচ্ছিল। তার কথা ছিল অনেকটা এরকম-

“All right, so here we are in front of the, uh, elephants, and the cool thing about these guys is that is that they have really, really, really long, um, trunks, and that’s, that’s cool, and that’s pretty much all there is to say.”

যার বাংলা বললে যা হয়- “আমরা হাতির সামনে দাঁড়িয়ে আছি, আর এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জিনিস হলো তাদের লম্বা শুঁড়। এখানে এতটুকুই বলার আছে।”

এখানে একটি কথা বলে নেয়া উচিত এই ভিডিওতে যাকে দেখা গেল তিনি হলেন আমাদের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউটিউবের সহপ্রতিষ্ঠাতা জাওয়াদ করিম!” চ্যানেলের নাম হচ্ছে ”Jawed”. এছাড়াও এই আর্টিকেলটি লেখা অবধি ভিডিওটির ভিউ প্রায় ১২৭ মিলিয়ন +।

টেকনোলজি সম্পর্কে আরও পড়ুন 

ইউটিউবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমাদের বাংলাদেশিদেরই একজন, তার কথা আমরা কয়জনই বা জানি? শুধু নিজে নিজে জানলেই তো হয় না, অন্যদেরকেও জানানো উচিত। তাই আর দেরি না করে জাওয়াদ করিমকে নিয়ে একটি ব্লগ লিখলাম।

ইউটিউব:

আসলে সত্যি কথা হলো ইউটিউব কী, তা তো আমরা সবাই জানি। ইউটিউব নিয়ে কিছু বলা লাগবে বলে আমি মনে করি না তারপরও দু একটি কথা লেখি-

ইউটিউব হলো ভিডিও শেয়ার করার একটি জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম। ইউটিউব বর্তমান ইন্টারনেট দুনিয়ার একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট। এই সাইটটিতে কেহ আপলোড করছে ভিডিও আবার কেহ ভিডিও দেখার জন্য আসেন। এছাড়াও ভিডিও পর্যালোচনা, অভিমত প্রদান সহ নানা প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে ইউটিউব প্লাটফর্মে।

প্রযুক্তিপ্রণেতা, পেপ্যাল প্রতিষ্ঠানের তিন প্রাক্তন চাকুরীজীবি চ্যাড হারলি, স্টিভ চ্যান আর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাভেদ করিম তিনজনের অক্লান্ত পরিশ্রমে ফেব্রুয়ারি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ইউটিউব ।

কয়েক মাসের চেষ্টায় তৈরি হওয়া ইউটিউব ভিডিও ফাইলের আকার ছোট করে প্রদর্শনের বিশেষ প্রযুক্তির জন্য বিশ্বে অনন্য সাধারণ অবস্থান নিয়েছে। বর্তমানে ইউটিউবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ বিলিয়ন বার ভিডিও দেখা হয়। প্রতি মিনিটে আপলোড হয় ৪৮ ঘণ্টার ভিডিও। ১ কোটি ১৫ লাখ ডলারে নির্মাণ করা ইউটিউব এক বছরের মধ্যেই গুগল কিনে নেয় ১৬৫ কোটি ডলারে।

ইউটিউব সম্পর্কে একটা ধারণা তো পেলেন, এবার তাহলে জানা যাক জাওয়াদ করিম সম্পর্কে।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

জাভেদ করিম পূর্ব জার্মানির মার্সবার্গে ১৯৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা বাংলাদেশের প্রবাসী বিজ্ঞানী নাইমুল করিম ও মা ক্রিস্টিনা করিম ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার বায়োকেমিস্ট্রির বিজ্ঞানী ছিলেন । ১৯৯২ সালে স্বপরিবারে নাইমুল করিম আমেরিকা পাড়ি দেন।

ছোট বেলা থেকেই জাওয়াদ ছিলেন একটু চুপচাপ প্রকৃতির এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তাভাবনাশীল একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকেই আবিষ্কারের নেশা সবসময় তার মনের ভিতর কাজ করতো, যার ফলস্বরূপ আজকের এই ইউটিউব।

জাওয়াদ করিমের ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত বেড়ে ওঠা জার্মানিতে। কিন্তু পরবর্তীতে লেখাপড়া করেন আমেরিকায়। জাভেদ কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি ২০০৫ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছিলেন।

ইউটিউবের শুরুর গল্প:

জাভেদের মাথায় প্রথম আসে ইউটিউব তৈরি করার আইডিয়াটা। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, ২০০৪ সালে একজন অভিনেত্রীর একটি ভিডিও ক্লিপ অনলাইনে অনেক খোঁজার পরও পাননি। তখন চিন্তা করেন একটি ওয়েবসাইটের কথা, কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই, যেখানে সবাই ভিডিও শেয়ার বা আপলোড করতে পারবে।

কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ার পাশাপাশি ২০০৪ সালে পেপ্যালে চাকরি করার সময় চ্যাড হার্লি এবং স্টিভ চেনের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। স্টিভ ছিলেন একজন কম্পিউটার সায়েন্সের ছাত্র। হার্লি মূলত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। এই তিন জনই নতুন কিছু করতে চাইতেন। এমনকিছু করতে চাইতেন, যাতে পুরো পৃথিবী অবাক হয়ে যায়।

তাই সান ফ্রান্সিস্কোতে স্টিভ চেনের বাসায় আলোচনার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হল । রাতের খাবারের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল তারা ইউটিউব নামক ভিডিও শেয়রিং সাইট তৈরি করবেন। এর একটিই কারণ তখন ভিডিও শেয়ারিং এর কোন উল্লেখযোগ্য সাইট ছিলোনা।

“ঝুঁকি নাও,সফল হও”
-জাওয়াদ করিম

আইডিয়া হলো, অসামান্য প্রতিভাবান দুজন বন্ধু ও আছে, কিন্তু এরকম ভিডিও সাইট চালাইতে অনেক টাকার প্রয়োজন, সেজন্য দরকার এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যিনি টাকা ইনভেস্ট করবেন। ‘সেকুয়া ক্যাপিটাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১১.৫ মিলিওন ডলার ইনভেস্ট করলো। এরপর তারা শুরু করে দিলেন তাদের কাজ।

২০০৫ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারি তারা youtube.com ডোমেইনটি রেজিস্ট্রেশন করলেন। তিন প্রকৌশলী কয়েক মাসের মধ্যে এর কাজও শেষ করে ফেললেন। নভেম্বর মাসে ‘ব্রডকাস্ট ইওরসেলফ’ শ্লোগানে অফিশিয়ালি উন্মুক্ত করা হলো ইউটিউব সাইটটি।

ইউটিউবে আপলোড করা প্রথম ভিডিও:

২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিলে ইউটিউবের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ভিডিওটি আপলোড করেছিলেন জাভেদ। ওইদিনই ইউজার একাউন্ট ‘jawed’ নামক চ্যানেলটি প্রথম তিনিই তৈরি করেন। সেখানে ‘Me at the zoo’ নামের একটা ১৯ সেকেন্ডের পরীক্ষামূলক ভিডিও আপলোড করা হয়। এই ভিডিওটি ছিল সান ডিয়াগোর এক চিড়িয়াখানায়, বয়স্ক হাতি মেসার সামনে। আর ইয়াকভ লাপিস্কি ভিডিওটি শ্যুট করেছিলেন। তিনি ছিলেন জাভেদ এর হাইস্কুলের বন্ধু।

তিনি এখন টলেডো ইউনিভার্সিটির কেমিক্যান অ্যান্ড এনভয়রমেন্টাল ইঞ্জিনিয়রিংয়ের অধ্যাপক । নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত এই ভিডিওর ভিউ ছাড়িয়েছে ১২৭ মিলিয়ন, আর কমেন্ট ১০, ৭২৭, ৫৪২ ! বর্তমানে ইউটিউবে প্রতি মিনিটে ১০০ ঘন্টারও বেশী ভিডিও আপলোড করা হয়ে থাকে!

ইউটিউবে আপলোড করা প্রথম ভিডিও:

 

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button